Showing posts with label বাংলা ব্লগ. Show all posts
Showing posts with label বাংলা ব্লগ. Show all posts

Monday, June 17, 2013

কুয়োর ব্যাং

আজকে কুন্তলার ব্লগে Mcdonalds নিয়ে একটা দারুন entry পড়লাম, সেইটা পড়তেই আমার নিজের একটা গল্পের কথা মনে পরে গেল। আমার প্রথম বাংলা ব্লগ পোস্ট পড়ে বেশ  উৎসাহ পেয়ে, হয়ত একটু বাড়ই পেলাম, কিন্তু তাতে কি হলো? আসলে হঠাৎ একদিন দেখি কৌশিক দার মা ও আমার ব্লগ এ কমেন্ট করে গেছেন। সেইটা দেখার পর থেকে খুব guilty feel করছি। মাসি যে লিখলেন, "এটা তোমার পুরাণো লেখা, কিন্তু এটাই তো শেষ বাংলা লেখা তোমার। তাই কতবার যে পড়লাম।... আরো লেখো। বাংলায় লেখো।" কমেন্টটা পড়ার পর থেকে প্রতিজ্ঞা করলাম যে পরের পোস্টটা বাংলাতেই করব। বাংলাতে টাইপ করতে তো একটু সময় লাগে, তাই দেরী হলো। (এখনো চন্দ্রবিন্দু টা  এড়িয়ে চলছে, ঠিক বাগে আনতে পারছি না। সেই কারণে চন্দ্রবিন্দু গুলো মনে মনে কল্পনা করে নিলে ভালো হয়। আর বাকি কোনো বানান ভুল হলে, ত্রুটি মার্জনা করিবেন।)
এর আগেও বলেছি আমি জন্মেছি টরন্টোয় আর বড় হয়েছি কলকাতায়। বছর ছয়েক বয়েস থেকে ঊনিশ পর্যন্ত কলকাতায় কাটিয়ে টরন্টো ফিরে এলাম ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টোয় bachelors করতে। সে এক অতি বাজে অভিজ্ঞতা। কলকাতায় ভাই কে ফেলে, সমস্ত বন্ধুদের ছেড়ে, এই বিদেশে (যদিও কানাডা ঠিক আমার কাছে বিদেশ নয়) কী কুক্ষণে যে আবার ফেরত আসতে হলো কে জানে? এখন ভাবতে ভয় হয়, কিন্তু তখন মনে হয়েছিল হয়ত কলকাতায় থেকে, বাসন্তী দেবী কলেজ এ আর্টস পড়াটাই মন্দের ভালো হত আর কি। পরে একবার কোনো একটা কারণে  বাবার কাছে শুনতে হয়েছিল, " এই টরন্টোয় ফিরেই যত ঝামেলা হলো। কলকাতায় থাকতি, বাসন্তী দেবী কলেজ এ পড়তি আর পরে, দেখে শুনে একটা বিয়ে দিয়ে দিতাম!" কি সাংঘাতিক! এইটা কোনো আক্ষেপ হলো!?

টরন্টোয় সেপ্টেম্বর  মাস এ যা ঠান্ডা, সেইরকম ঠান্ডা তখন পুরো শীতকালেও কলকাতায় পড়ত না, আর এমনিতেই সবাই জানে আমি বেশ শীতকাতুরে। কলকাতার শীতে আমি ফুল স্লীভ শার্ট পরে স্কুল যেতাম, ছেলেদের শার্ট পরতাম বলে বকুনিও খেতাম, কিন্তু আমাকে কেউ ঠেকাতে পারত না। টরন্টোয় সেপ্টেম্বর মাস এর weather এই আমি ইয়া মস্ত বড় জ্যাকেট, মাফলার, গ্লাভস, টুপি পরেই বাইরে যেতাম। দেখে বেশ ওই "ফ্রেশ অফ দা বোট" ই লাগত - এই কথা স্বীকার করতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এদিকে আবার অন্য বিপদ, মুখ খুললেই কিন্তু কানাডিয়ান accented ইংরেজী বেরোত! এইটা কি করে হয় আমি এখনো বুঝিনা - প্লেন থেকে নামতেই আমি কেমন মাতৃভূমি তে ফিরে এলাম এই রকম একটা ভাব নিয়ে, ফর ফর, খাচ্যাং মাচ্যাং করে ইংরেজি বলা শুরু করলাম। হয়ত ছয় বছর বয়েসে থেকে dormant ছিল - কলকাতায় সবাই হ্যাটা করবে এই ভেবে ওই ছোট বয়েসেই নিজের আসল চেহারা টা কে সামলে রেখেছিলাম।


প্রথম ক্লাস এর দিন। ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো হলো বিশাল ক্যাম্পাস। ৪ টে সাবওয়ে স্টেশন জুড়ে, ক্যাম্পাস এর এ মাথা থেকে ঐ মাথা অবধি হাফ হেঁটে হাফ ছুটে যেতে মোটামোটি কুড়ি মিনিট মত লাগে, সেইখানে কেমন জানি একটা বোকাবোকা হাবা হয়ে গেলাম। ভুল করেছিলাম যে ক্লাস শুরু হবার আগে একবারও ক্যাম্পাস মুখো  হইনি। কুয়োর ব্যাং কে সাগরে ফেললে যেইরকম হবে সেইরকম অবস্থা হয়েছিল। সকাল নয়টায় বায়োলজি ক্লাস শুরু, সেই lecture টা হয় আবার convocation hall  এ। ক্লাস এর মোট স্টুডেন্ট সংখ্যা হলো ১৫০০। এমতাবস্থায় বিপদ যেন আরো ঘোরতর হলো। "কুল নাই সীমা নাই" - যে দিক পানেই চাই অকুল দরিয়া। ক্লাস এর শেষে বাইরে এসে দেখি ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে - ছাতা আনিনি। কিন্তু পরের ক্লাস টায়  যে যেতে হবে? মাথা তুললে দেখলাম, একটা খয়েরি চামড়ার মেয়ে ছাতা নিয়ে, এক হাত চুড়ি পরে বেশ "I Know Where I Am Going" এইরকম একটা ভাব নিয়ে গটগট করে হেঁটে যাচ্ছে। আমি তড়িঘড়ি একদম ছাতার তলায় ঢুকে পরে জিজ্ঞেস করলাম, "Hi! Do you know where Sid Smith Hall is?" সে ঐরকম একটা কিম্ভূতকিমাকার বেশে ছাতার নিচে uninvited ঢুকেই পড়েছে একজন মেয়েকে দেখে বলল, "Sure, Let me show you." শাম্ভাভি, (এত বছর পর ও সে আমার ভীষণ ভালো বন্ধু) আমাকে প্রকৃতির নিঠুর হাত থেকে বাঁচিয়ে Sid Smith Hall এ পৌঁছে দিল। আমি ক্লাস টা  কে কোনরকমে বার করে যখন ১০ মিনিট দেরী তে পৌঁছে দেখি এ মা, এইটা তো ক্লাস নয়, কারো অফিস! সেই ভদ্রলোক খুব অবাক হয়ে হয়ে বললেন, "I hope there isn't a class here, this is my office!" ভদ্রলোক বই হাতড়ে দেখে দিলেন যে আমার ক্লাস যেই বিল্ডিং এ সেইটা ক্যাম্পাস এর একদম অন্য প্রান্তে! আমাকে রাস্তা বুঝিয়ে দিয়ে, বিদায় দিলেন। আমি রাস্তায় বেরিয়ে দেখি তখনও  বৃষ্টি পড়ছে, বাইরে সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা গেল মচকে, চশমা গেল ভেঙ্গে। ব্যাস অকুল পাথার।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনো রকমে campusএর ওই প্রান্তে পৌছেছি কিন্তু কোনো building এর নাম ই তো দূর  থেকে দেখতে পাই না। প্রত্যেকটা বিল্ডিং এর সামনে পর্যন্ত খুঁড়িয়ে দৌড়ে যাই, নাম পড়ি, আবার খুঁড়িয়ে দৌড়ে ফুটপাথে ফিরি, খুঁড়িয়ে দৌড়ে একটু সামনে এগোই, আবার নাম দেখতে যাই। এইভাবে বিল্ডিং টি বার করে, ক্লাস এ গিয়ে পৌছলাম এক ঘন্টা লেট।  একটা চুপচুপে ভিজে কাককে  মস্ত বড় জ্যাকেট, ভেজা মাফলার-গ্লাভস-চুল, ভাঙ্গা চশমা আর মুচকে যাওয়া পা দিয়ে দিলে যেরকম দেখতে লাগবে ঠিক সেইরকম বেশে আমি ঢুকলাম ক্লাস এ। এ ক্লাসে আবার মাত্র ৮ জন স্টুডেন্ট - architectural seminar. এই ক্লাস এ আমি এলাম কি করে, মানে রেজিস্ট্রেশন হলো কি করে, এই সব ভাবতে ভাবতে, শীতে কাঁপতে কাঁপতে নির্লজ্জ বেহায়ার মতন ঘুমিয়েও পরলাম। ক্লাসের শেষে,ঘুম থেকে ছুটে গেলাম রেজিস্ট্রার'স অফিসে। সেইখানে গিয়ে কাকুতি মিনতি করে ক্লাস বদলানো হলো।

এইবার প্রচন্ড খিদে। দুরে bloor street এর ওপর সারি দিয়ে কয়েকটা দোকান। "কফি ! আহ! গরম!" এই সব কথা ভেবে কফির দোকানের দিকে এগিয়ে গেলাম। দোকানে ঢুকে এক গাল হেসে বললাম, "Can I have a cup of coffee please?"
server - size?
আমি - ummmm... medium?
s - what kind?
আ - huh?
s - What Kind?
আ - I'm sorry I don't know what you mean.
s - full bodied medium roast, regular, dark blend, irish cream, hazelnut.... (এই সব কি কয়েকটা বলল)
আ - ummm... maybe, regular?
s - HowWouldYaLikeIt?
আ - Excuse Me?
s - How Do You Like Your Coffee Miss?
আ - In a cup....?
S - Ma'am, How much Sugar and Cream do you want in your coffee?
আ - Cream?! ... Sorry, can I just have a cup of coffee with some milk and sugar please?
যা কফি হাতে পেলাম সেইটা আর মুখে দিতে পারিনি। মনে হলো ১০০ টাকা নর্দমার জলে ফেলে দিলাম। এ বাবা ঐটা কি? McDonald's নাকি?! কি মজা! আমি আজকেই Big Mac খাব?! উফফফ কি খিদে!

server - Hello. How may I help you?
আমি - Hi! Can I have a Big Mac Please?
S - Just the sandwich?
আমি- Does it come with anything else?
S- Fries and a Drink?
আমি- For free?
এই রকম উদ্ভট প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ত কোনোদিন হতে হয়নি, তাই একটু ভড়কে গিয়ে server হেসে ফেলে বলল, "Yes. wouldn't it be awesome if we didn't have to though?" (আমার এখন মনে হয় যে সে ভেবেছিল এমন প্রশ্ন সিরিয়াসলি হতেই পারে না, মশকরা করছিলাম বোধ হয়)
আমি - খুব uncomfortable একটা হাসি দিয়ে বললাম, "What Kind of Drink?"
server - Whatever pop you want.
আমি - (মনে মনে, "the drink pops?") yes please, I'll have a drink.
Server - ForHereOrToGO?
আমি - huh?
Server - FORHEREORTOGO?
আমি - Sorry, I don't understand what that means.
Server - Would You LIke to Eat it Here? Or would you like to take it to go?
আমি - Here. (দীর্ঘশ্বাস ) I would like to eat it here. Thank you.


McDonald's খাবার কি অপরিসীম তৃপ্তি সেইদিন ই বুঝেছিলাম। দিনের শেষে, কুয়োর ব্যাং সমুদ্র জয় করে ঘরে ফিরল।

Wednesday, February 6, 2013

নস্যির কৌটো

কদিন ধরে আমার বেশ কজন চেনাশোনা বন্ধুরা বাংলায়  ব্লগাব্লগি করছে। অভিষেক দা তো বরাবরই দারুণ  সুন্দর করে বাংলায় গল্প বলে, সেদিন দেখি কৌশিক দাও ইংরিজি বিশ্ব জয় করে বাংলায় কীবোর্ড চালু করেছে। কুন্তু দি ও অসাধারণ লেখে। একটা ব্লগ খুলেছে, কিন্তু সেটাতে আমারই মত বেশ ল্যাদ খায়। গত কাল দেখলাম সীমন্তিনী ও কিছু কম যায় না! কি ভালো লিখল!

যদিও আমার বাংলা লেখা নিঃসন্দেহে গোল্লায় গেছে আমিও উৎসাহিত হয়ে পড়লাম। কালকে আমার ইকোনমিক্স ক্লাস এ বসে, খসখস করে বেশ কয়েক পাতা জুড়ে আমার ছোটবেলার একটা  মজার স্মৃতি লিখে ফেললাম। আসলে, আমার আর এক দল বন্ধুদের সঙ্গে ছোটবেলার গল্প বলতে বলতে মাথায় এই বুদ্ধি (দুর্বুদ্ধি) টা প্রবেশ করলো। দেখা যাক কি হয়!

আমার ভাই (রণ) আর আমি বয়সে বেশ কাছাকাছি: আমার যখন ৩ বছর ৯ মাস বয়স, রণ মায়ের কোল আলো করে দেখা দিল। যদিও প্রথমপ্রথম "ওকে বাজারে ফেরৎ দিয়ে এসো, আমার sister চাইইই" বলে বায়না ধরতাম, বছর কয়েক সময় নিয়ে ভাবটা বেশ ভালই জমে উঠেছিলো।


আমার যখন ৬ আর ভাইএর ২।৫ তখন আমরা টরন্টো থেকে কলকাতা ফিরে যাই। "ফিরে যাই" এর থেকে বোধ হয় "চলে যাই" টাই বেশি প্রযোজ্য। যাই হোক, আমরা কলকাতা চলে যাই। চলে যাবার পর ছোট ছোট বহু বেশ মজার ঘটনা ঘটে, যে গুলো নিয়ে আমার বিয়ের সময়ও অনেক চর্চা হয়েছে। দেয়ালে টিকটিকি দেখে আমার চিৎকার, "Alligator coming to eat meeeeee!" মামারবাড়ীত়ে পুরনো বাথরুম এর দরজার ফাঁক দিয়ে আরশোলা দেখে "bug bug!" বলে যেই কেঁদে উঠেছি, দিদা কোমরে হাত দিয়ে বকে দিয়েছেন, "উফফ !! মাকে একটু শান্তিতে বসতে দেবে না! ইয়ার্কি পেয়েছ? শহরের মধ্যে বাঘ দেখছ? বাঘ?!" তারপর, বড়মামির সঙ্গে আলাপ হবার পর মায়ের গলা জড়িয়ে রণ র চিল চিৎকার, "না !!!! আমার একটাই Mummy !!!!!"

এইরকম বহু traumatising experience একলাইন দুলাইন করে বলা যায়। কিন্তু একটা ঘটনা এইরকম করে বললে ঠিক বলা হবে না তাই এই গল্প।

আমার বাবার ছোটকাকা হলেন আমাদের কাকাদাদু। বিয়ে থা করেননি। আমরা দেশে চলে যাবার পর কাকাদাদু আমাদের সঙ্গেই থাকতেন। লুঙ্গি পরতেন - আর এইটা নিয়ে মায়ের বেশ ঘোরতর আপত্তি ছিল। সেই কারণেই রণ আজকাল মতিভ্রম হলেই বাড়িতে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ায়। মাকে একটু জ্বালিয়ে কি শান্তি পায় কে জানে। যাই হোক, কাকাদাদু নস্যি নিতেন। মনে হয় ওই habit টাকে "নস্যি নেওয়া" ই বলে। ওই যে দু আঙ্গুলে চিমটি করে নস্যিটা নিয়ে, একদিকের নাক আঙ্গুল দিয়ে চেপে, অন্য দিকের নাক দিয়ে টেনে নেয়? এই নস্যি র কারণে কাকাদাদুর কাছে ছোট ছোট রূপোর নস্যির কৌটো থাকত। জানিনা কি করে আমাদের বাচ্চাবেলার বুদ্ধিতে আমরা ঠিক বুঝে নিয়েছিলাম, যে ওই কৌটো গুলো কাকাদাদুর কাছে খুব important। আমরা সুযোগ পেলেই ওগুলোকে "vanish " করে দিতাম। কাকাদাদু ঘুমনোর সময় লুঙ্গির কোঁচা থেকে নস্যির কৌটোতা যেই বার করে জানলার সিলে রাখতেন আমরা তক্কেতক্কে থাকতাম। চোখ বুঝলেই, শকুনের মতন ঐটাকে ছো (জানি চন্দ্রবিন্দু হবে কিন্তু কিছুতেই বসাতে পারছি না) মেরে হাপিস করে দিতাম।

এই কাকাদাদু  হঠাৎ কোথায় জানি উধাও হয়ে যান। বহু বছর পর আমরা খবর পাই যে উনি মারা গেছেন। কি ভাবে জানা যায়, কে খবর দিয়েছিল, কী ঘটনা সেরকম কিছুই আমরা জানিনা। ছোট ছিলাম বলে হয়ত আমাদের কিছু বলা হয়নি।

এরপর বহু বছর পর বর্ষাকাল। কলকাতায় প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি। হঠাৎ হলো কি .....দাঁড়াও। আমাকে আগে অন্য কথা বলতে হবে।

আমাদের যাদবপুরের ছোট বাড়ীতে  একটা ছাদ ছিল। সেই ছাদে ছিল আমাদের যত্ত দৌরাত্তিপনা। ছাদের সাথে লাগোয়া একটা চিলেকোঠা, আর চিলেকোঠার মাথায় ন্যাঁড়া ছাদ। ন্যাঁড়া ছাদে ওঠা বারণ ছিল, কিন্তু সেই বারণ আমরা শুনব কেন? টরন্টো থেকে ফেরার সময় বাবামা বেশ শখ করে একটা বড় bathtub নিয়ে যায় । কিন্তু সেটা বসানোর মতন জায়গা বা প্রয়োজন হয়নি হয়ত, তাই ঐটা ছাদেই পড়ে থাকত। পরে সেটা জবা গাছের টবে পরিণত হয়। কিন্তু তার আগে, সেই bathtub ছাদে, চিলেকোঠার গায়ে, উল্টো করে হেলান দেওয়া  থাকত। রণ ঠিক ছাদের পাঁচিলে উঠে, bathtub এর মাথায় চড়ে চিলেকোঠার ন্যাঁড়া ছাদে উঠে যেত।

বহু বছর পর বর্ষাকাল। প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। বাবা খেয়াল করলো যে চিলেকোঠার ভেতরে দেয়াল গড়িয়ে বেশ জল পড়ছে, চুয়ে চুয়ে। বোঝা গেল যে এর মানে হলো চিলেকোঠার ছাদে জল জমছে। বেশ চিন্তার ব্যাপার। জল তো জমার কথা নয়, কারণ, চিলেকোঠার ছাদে তো পাইপ দিয়ে একটা নল করা আছে। কিন্তু বাবা দেখল যে সেই নল দিয়ে জল তো পড়ছে না! তার মানে নিশ্চই ওই নলে কিছু আটকে আছে।

বাবা অনেক কষ্ট করে, কোনো রকমে, বৃষ্টির মধ্যে, চিলেকোঠার ছাদে উঠলো। বেশ খানিকক্ষণ পর, চুপচুপে ভিজে ভেতরে ফিরল।প্রচন্ড রাগে  মূখটা থমথমে, কিন্তু আবার বেশ confused । কী হলো? বাবা কিছু না বলে, হাতের মুঠোটা খুললো - দেখা গেল সারি দিয়ে ৫টা রূপোর নস্যির কৌটো।